মঙ্গলবার | ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ ইং |

বইমেলা আমার কাছে স্বর্গীয় সুখ : অনুপম হায়াৎ

পাঠক হয়ে ওঠা কতটা জরুরি মনে করেন?
অনুপম হায়াৎ:  জ্ঞানচর্চা, বিনোদন এবং চিত্তের উন্নয়নের জন্য পাঠক হয়ে ওঠা আমাদের জন্য জরুরি।
সময়ের সাথে সাথে ভাষার সৌকার্য যে বৈচিত্র্যতা সেটিকে কিভাবে দেখছেন?
অনুপম হায়াৎ: বলা হয়ে থাকে, ভাষার গতি বহমান নদীর মতো। তাই ক্ষণে ক্ষণে ভাষা বদলায়, ভাব বদলায়। পুঁজিবাদী ভাষা একরকম আবার সমাজতান্ত্রিক ভাষা একরকম। ১৯৪৪ সালে ’৪৩-এর দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে একটি গদ্য সঙ্কলন বের হলো সুকান্ত ভট্টাচার্যের সম্পাদনায়, ‘আকাল’ নামে। সেখানে ফররুখ আহমদের একটি বিশাল কবিতা ছাপা হলো। ভাবা যায়? সে সময় চিন্তায়, ভাষায় ফররুখ আহমদ কতটা প্রগতিবাদী ছিলেন। তো ভাষার এই নান্দনিক বৈচিত্র্য থাকবেই।

অমর একুশে গ্রন্থমেলা কেমন লাগছে?
অনুপম হায়াৎ: বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা, দৈহিক ক্ষুধা মিটিয়ে আমার আত্মার ক্ষুধা মেটাই বইমেলায় গিয়ে। বই আর বই, সেখানে কোনো চাল, ডাল, বোয়াল মাছ, কোরাল মাছ নেই, শুধু বই। এটি একটি বইয়ের রাজ্য, জ্ঞানের রাজ্য, এটি আমার কাছে স্বর্গীয় সুখের মতোই মনে হয়।

আমাদের প্রকাশিত বইয়ের গুণগত মান কেমন?
অনুপম হায়াৎ: মেলার সীমানা বেড়েছে, তবে গুণগত মান সেভাবে বাড়ছে না। দিন দিন মানের বিস্তারও বাড়ার কথা। আমি খুব দুঃখ করে একটি কথা বলতে চাই, ঈদ নিয়ে আমাদের লেখালেখি খুব কম। কোনো গল্প, উপন্যাসে এ বিষয়টি দেখি না নজরুল ছাড়া এবং এই যে আমাদের নদীভাঙন; আমাদের লেখায় এভাবে আসছে না। আমাদের ঐতিহ্য, পরিবেশ, প্রকৃতি নিয়ে লেখার লোক নেই। কৃষকের জীবন, আমাদের ফসল নিয়ে লেখা হচ্ছে না।

কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে গবেষণা আপনার। তো বাঙালি জাতির জন্য নজরুলচর্চা কতটা জরুরি?
অনুপম হায়াৎ: নজরুল চর্চা তো বেশ জরুরি। তবে ইদানীংকালে নজরুলের গানের চর্চাটাই বড় করে দেখা হচ্ছে। কিন্তু নজরুল যে আদর্শের জন্য লিখেছেন, যে সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে যে কাজ যেগুলো কিছুই তো আসছে না। আমি তো হতাশ। নজরুলের যে বিদ্রোহী সত্তা সেটি আড়াল হয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নজরুলের নাটকগুলো দেশব্যাপী মঞ্চায়ন করা যেতে পারে। তার গদ্য চিঠিপত্রগুলো পাঠের ব্যবস্থা করতে পারে। এ জায়গায় নজরুল ইনস্টিটিউট ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্বসাহিত্যের আলোকে বাংলা সাহিত্যের অগ্রযাত্রার গতিপথে কেমন সম্ভাবনা দেখছেন?
অনুপম হায়াৎ: হাসান আজিজুল হক এরা অনেকটা এগিয়েছেন। তবে এখনো অনেকেই ভালো লিখছেন। আর বিদেশী সাহিত্যগুলো আমরা অনুবাদ করতে পারলে আরো বোঝা যাবে আমরা কোন দিকে যাচ্ছি।

একজন লেখকের জন্য পদক বা স্বীকৃতি কতটা জরুরি?
অনুপম হায়াৎ: একজন মুসলমান পণ্ডিত বলেছিলেন, ‘সে লেখক হিসেবে দুর্ভাগা যে, রাজার সান্নিধ্য চায়।’ লেখকের লেখা উচিত নিজের জন্য, সমাজের জন্য। তার জন্য প্রশংসা, পুরস্কার জরুরি নয়। সে লিখবে গভীর দৃষ্টিকোণ, পরিচ্ছন্ন জীবনবোধ থেকে।

 

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *