মঙ্গলবার | ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ ইং |

মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত একটি সৃজনশীল সমাজ গড়ার প্রত্যয় এমপি বাবুর

মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী, প্রগতিশীল, মুক্তবুদ্ধি ও মুক্ত চিন্তা চেতনার মানুষ অনগ্রসর সমাজেকে নতুন করে বিনির্মান করতে নিরলসভাবে কাজ করে যান। তাদের সাধনা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সংস্কৃতি, সভ্যতা ও রাজনীতি আলোর পথে অগ্রসর হয়। তাদেরই একজন নজরুল ইসলাম বাবু। দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয়। নজরুল ইসলাম বাবু নারায়নগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে তৃতীয় বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মাদক, মন্ত্রাস, ও চাঁদাবাজমুক্ত একটি সৃজনশীল সমাজ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। শত ব্যস্ততার মাঝেও নজরুল ইসলা বাবু ‘আলোর পথযাত্রী’তে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে এক বিশেষ সাক্ষাৎকার প্রদান করে ‘আলোর পথযাত্রী পাঠাগারকে ধন্য করেছেন।

আলোর পথযাত্রী : আসসালামু আলাইকুম।

নজরুল ইসলাম বাবু : ওয়ালাইকুম আস্সালাম।

আলোর পথযাত্রী : কেমন আছেন?

নজরুল ইসলাম বাবু : জ্বি ভালো আছি।

আলোর পথযাত্রী : শুরুতেই আপনার ছেলেবেলার কথা জানতে চাই…

নজরুল ইসলাম বাবু: আমার জন্ম আড়াইহাজারের বাজবী গ্রামে। ভাইবোনের মধ্যে অন্যদের চেয়ে আমি ছিলাম অনেকটা আলাদা। গ্রামের অত্যন্ত মনোরম সবুজ শ্যামল প্রকৃতির মধ্যে আমার দুরন্ত ও প্রাণোচ্ছল শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। বাড়ির আশে পাশের খাল বিলে বন্ধুদের সাথে সাঁতার কাটা, মাছ ধরা, কখনও গাছে উঠে ফল পেড়ে খাওয়া, স্কুল শেষে বাড়ি ফিরে বন্ধুদের সাথে নিয়ে খেলার মাঠে যাওয়া, সেখানে ফুটবল খেলায় হার-জিত নিয়ে বন্ধুদের সাথে মান অভিমান করা ইত্যাদি নিত্য নৈমিত্তিক কর্মকান্ড ছিলো আমার ছেলেবেলার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দূরন্ত শৈশব ও কৈশোরের সেই অবাধ স্বাধীন চলাফেরায় বাবা-মা কখনো তেমন বাঁধা দেননি।

আলোর পথযাত্রী : আপনি কিভাবে রাজনীতির সাথে যুক্ত হলেন?

নজরুল ইসলাম বাবু : ব্রিটিশ শাসনামলে নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ, সোনারগাঁসহ আড়াইহাজার উপজেলার সাতগ্রাম ও দুপ্তারা ইউনিয়নেও অত্যাচারী জমিদার ও তাদের উত্তরসূরী ভুজুপুরী দেশওয়ালী পেয়াদারেরা সাধারণ প্রজাদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন করে চলছিল। সাধারণ মানুষের প্রতি জমিদার এবং তাদের পাইক পেয়াদের অন্যায়-অবিচার, জুলুম-নির্যাতন আমার পিতামহ মাওলানা মফিজউদ্দিন আহম্মেদকে দারুণভাবে ব্যথিত ও মর্মাহত করে। তিনি জমিদারদের অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেন। এবং অত্র অঞ্চলের কয়েক হাজার কৃষক নিয়ে একটি শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনী গঠন করেছিলেন। তিনি অত্যাচারী জমিদার দয়ামোহন চৌধুরাণীসহ অন্যান্য হিন্দু জমিদার ও তার উত্তরসূরীদের সমূলে উৎখাত করে অত্র অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনেন। আমার চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. রেজাউর রহমান দুপ্তারা ইউনিয়নের একাধিকবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। পিতামহ, বাবা, চাচা এবং তাদের উত্তরসূরীদের নীতি নৈতিকতা, মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ভালোবাসা, মমত্ববোধ ও অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়ার মানসিকতা আমার জীবনে ব্যাপকভাবে প্রভাব বিস্তার করে। পূর্ব পুরুষগণ যেখানে স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব প্রদান করে সাধারণ মানুষের সুখে দুঃখে বিপদে আপদে পাশে থেকে জনসেবাকে ব্রত হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন, সে পরিবারের উত্তরসূরী হিসেবে আমাকে জনসেবা করার জন্য মহৎ কাজটি করতে ছোটবেলা থেকেই আকৃষ্ট ও অনুপ্রাণিত করেছিল। স্কুল জীবন থেকেই রাজনীতি সচেতন ছিলাম, কোন অন্যায় অবিচার চোখে পড়লে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলাম।

আলোর পথযাত্রী : রাজনীতি করার পেছনে আপনার বিশেষ কোন কারণ রয়েছে কী?

নজরুল ইসলাম বাবু : আমি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমন করেছি। সেই সুবাধে বলতে পারি বাংলাদেশের মানুষের দেশপ্রেম অন্য সব জাতির চেয়ে অনেক বেশি। আমি বিশ্বাস করি যেকোন জনপদের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা থাকা দরকার। রাজনীতিই দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যায়। তাই মানুষের জন্য কাজ করাকে আমি সবসময় উপভোগ করি। এজন্যই মানুষের সেবায় নিজেকে সচেষ্ট রাখবো বলেই রাজনীতিতে আসা।

আলোর পথযাত্রী : আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নিজেকে সমৃক্ত হওয়ার পেছনে কারণ কী?

নজরুল ইসলাম বাবু : হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গারী ও স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ যখন প্রথম শুনি সেদিন থেকেই মহানায়ককে গভীর শ্রদ্ধায় ভালোবেসে ফেলি। সেই থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে স্কুল জীবনেই জড়িয়ে পড়ি। আর এভাবেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়া। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেশপ্রেম, তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হই। বঙ্গবন্ধু যখন এ দেশের অগণিত মানুষের দাবী আদায়ে জীবন বাজি রেখেছেন এবং নিজের মেধাকে দেশকে শত্রুমুক্ত করায় কাজে লাগিয়েছেন। তাঁর ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা পাহাড়সম কষ্ট বুকে নিয়েও দেশের রাজনীতি পরিবর্তনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সচেষ্ট হয়েছেন। তখন থেকেই জননেত্রী শেখ হাসিনার সহযোদ্ধা হিসেবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নিজেকে সমৃক্ত করেছি। নৌকার মাঝি হয়ে আড়াইহাজারের ঘাটে নোঙর ফেলেছি। আমার এই নোঙর ফেলার পেছনে একমাত্র কারন- আড়াইহাজারবাসীর সেবক হয়ে থাকা। আজীবন মানুষের সেবক হয়েই থাকতে চাই।

আলোর পথযাত্রী : ব-দ্বীপ খ্যাত কালাপাহাড়িয়া নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

নজরুল ইসলাম বাবু : প্রমত্তা মেঘনা নদীবেষ্টিত আড়াইহাজার উপজেলায় দুর্গম কালাপাহাড়িয়াবাসীর জন্য ছিল না কোনো সড়ক। বছরের বারো মাসই তাদের জলপথ কিংবা হেঁটে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচল করতে হতো। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে সাতটি ব্রিজসহ মধ্যাচর থেকে খালিয়ারচর পর্যন্ত সাত কিলোমিটার সড়ক নির্মাণসহ প্রতিটি সংযোগ সড়ক কার্পেটিং করায় যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও আমূল পরিবর্তন এনে দিয়েছি। দুইটি আশ্রয় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রায় হাজার লোকের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কালাপাহাড়িয়া নিয়ে আমার অনেক বড় ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে। অত্র অঞ্চলকে পর্যটনের নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য অলরেডি একনেকের সভায় বিল পাস হয়েছে। এখন শুধু বাস্তবায়নের অপেক্ষা। আশা করি খুব শীঘ্রই কাজ বাস্তবায়ন হবে। পাঁচশ’ একর জমির জমিতে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা প্রক্রিয়াধীন। এছাড়াও কালাপাহাড়িয়ায় একটি উন্নতমানের ফুল প্লেইজের স্টেডিয়াম তৈরির  করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আলোর পথযাত্রী : ফলিত, পুষ্টি ও গবেষনা ইনস্টিটিউট  (বারটান), কৃষি ইনস্টিটিউটের মতো একই উপজেলায় দুইটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়নের মাধ্যমে আপনি ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন। ভবিষ্যতে আড়াইহাজারবাসী জন্য আরও কি কি সু-খবর অপেক্ষা করছে…

নজরুল ইসলাম বাবু : বিগত সময়ে এখানে অনেকে এমপি ছিলেন। কিন্তু তারা আড়াইহাজারবাসীর ভাগ্য উন্নয়নে তারা কাজ করেনি। গত দশ বছরে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, তথ্য-প্রযুক্তিসহ সব সেক্টরে রেকর্ড পরিমাণ উন্নয়ন করেছি, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করেছি। আগামী দুই বছরের মধ্যে আড়াইহাজার অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ শেষ হবে, এক লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে। মেঘনায় সেতু নির্মাণ ও নদীবন্দর হবে। আড়াইহাজারের জনগন সহজেই আধুনিক শহরের সব সুযোগ সুবিধা ভোগ করবে। টেক্সটাইল কলেজ, নাসিং ইনস্টিটিউট, ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, আড়াইহাজরের প্রধান ২৬ টি সড়ক প্রশস্ত করা হবে। সকল খাল ও নদী খনন করা হবে। আড়াইহাজারে কোন বেকার যুবক থাববে না। কর্মসংস্থানের জন্য যা যা করা দরকার পর্যায়ক্রমে সব করা হবে।

আলোর পথযাত্রী : ‘আড়াইহাজার সিটি করপোরেশন’ গঠন বিষয়ে বলুন….

নজরুল ইসলাম বাবু :  আড়াইহাজার উপজেলা, রূপগঞ্জের গাউছিয়া, মাধবদী ওও সোনারগাঁও এলাকার অংশ বিশেষ নিয়ে রাজধানী উপকণ্ঠে গ্রামীণ পরিবেশে একটি পরিকল্পিত আধুনিক নগরী গড়ে তুলে তাকে সিটি করপেএরশন হিসেবে প্রতিষ্ঠার করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে ‘আড়াইহাজার সিটি করপোরেশ’ প্রতিষ্ঠার দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সিটি করপোরেশ কার্যকর হলে উন্নত নগরীর মতো নানা রকম সুযোগ সুবিধা এলাকাবাসী ঘরে বসে ভোগ করতে পারবেন।

আলোর পথযাত্রী :  আড়াইহাজারবাসীর আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের জন্য রেকর্ড পরিমান কাজ করেছেন। জানতে ইচ্ছে করছে,  আড়াইহাজারবাসীর কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?

নজরুল ইসলাম বাবু :  আড়াইহাজারবাসী সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে আসছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া সংগঠন আওয়ামী লীগ এবং তার সুযোগ্য কন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার নৌকার প্রতি তারা বার বার আস্থা রেখেছে। নৌকার প্রার্থীকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছে। এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনগুলোতে চেয়ারম্যান, মেয়র, কাউন্সিলর এবং সদস্য পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছে। আমাদের জনপ্রতিনিধিরাও ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের আস্থার প্রতিদান দিয়ে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আমি মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, একটি সৃজনশীল সমাজ গড়ার লক্ষ্যে আড়াইহাজাররের আপামর জনসাধারণ সমর্থন প্রত্যাশা করছি।

আলোর পথযাত্রী :  আপনার প্রত্যাশা পুরণ হোক। তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় আপনাকে আলোর পথযাত্রী পাঠাগার এর পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

নজরুল ইসলাম বাবু : ‘আলোর পথযাত্রী’ সাময়িকীর সাফল্য কামনা করছি। আলোর পথযাত্রী পাঠাগার এর সকল সদস্য ও সংশ্লিষ্টদের জন্য শুভ কামনা।

সাক্ষাতকার গ্রহণ : সফুরউদ্দিন প্রভাত ও অরণ্য সৌরভ

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *