1. shahinit.mail@gmail.com : admin :
  2. alorpathajatri7@gmail.com : সফুরউদ্দিন প্রভাত : সফুরউদ্দিন প্রভাত
রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৩:২২ পূর্বাহ্ন

শেখ হাসিনা শান্তি ও ন্যায়ের এক মূর্ত প্রতীক

প্রতিবেদক
  • প্রকাশ কাল বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২০

সব হারিয়ে আমার শুধু দেবার পালা। মানুষের জন্য করে যাচ্ছি। দেশের মানুষের জন্য আমি জীবন দিতেও প্রস্তুত। এই ব্রত নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তাঁর সংগ্রামী আদর্শের পথ ধরে জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য লড়াই করে চলেছেন। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের নির্মমতার পর দেশে ফিরতে দেওয়া হয়নি। বাধ্য করা হয়েছিল ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে ছয় বছর অবস্থান করতে। শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।

এরপর ১৯৮১ সালে বহু প্রতিক্ষিত দেশে ফেরা! তিনি স্মৃতিচারণে বলেন, “এয়ারপোর্টে নামলাম। লাখো মানুষের ঢল। মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হলাম”। সেইদিনও কেউ ভাবতে পারেনি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে, স্বাধীনতার স্বপক্ষের মানুষ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। বাংলার ইতিহাসে লৌহমানবী হাল ধরলেন এক ডুবন্ত নৌকার, যাত্রা শুরু করলেন আলোর পথে। সকল প্রতিকূলতাকে আয়ত্তে এনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর উন্নয়নের সেবা পৌঁছে দিচ্ছেন প্রান্তিক জনগণের কাছে। পিতার মতো তাঁরও বিশ্বাস ও ভালোবাসার জায়গা জনগণ। তাঁর মতে, “সংগঠন আমার পাশে, বাংলার জনগণ আমার পাশে, তাদের দোয়া-আশীর্বাদ, এটাই আমার শক্তি”।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে তিনি বলেন, “এই আওয়ামী লীগই আমার শেষ এবং একমাত্র ঠিকানা। সব হারিয়ে আপনাদের নিয়েই আমি বেঁচে আছি, আমার কোন ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া নেই। দেশের কল্যাণই আমার একমাত্র লক্ষ্য। বার বার আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আল্লাহর রহমত এবং আপনাদের ভালোবাসাই আমাকে দেশবাসীর কাছে ফিরিয়ে এনেছে। আমার পিতা বঙ্গবন্ধু জীবন দিয়ে গেছেন, কিন্তু আপনাদের ভালোবাসার অমর্যাদা করেননি। ইনশাআল্লাহ আমিও জীবন দিয়ে হলেও বাংলার মানুষের বিশ্বাস ও ভালোবাসার মর্যাদা রক্ষা করব”।

সমস্যা সমাধানে শেখ হাসিনার শ্রেষ্ঠত্ব ও তাঁর দর্শনের গ্রহণযোগ্যতা দেশের মানুষের কাছে সকল সময়ের সীমা অতিক্রম করেছে। চতুর্থবারের মত প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশ ও দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছেন। ২০১৭ সালের জাতীয় শোক দিবসের স্মরণ সভায় তিনি বলেন, “কাজেই জীবনে তো আর কোন চাওয়া-পাওয়ার কিছুই নেই। একটাই আছে, যা আমার বাবার অসমাপ্ত কাজগুলি যদি আমি করে যেতে পারি; মানুষকে যদি একটু সুন্দরভাবে জীবন দিতে পারি; একটু উন্নত জীবন দিতে পারি; তাদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারি অন্তত মৃত্যুর পরে যদি কখনও, জানি না দেখা হবে কি না? মৃত্যু পরে যদি দেখা হয় অন্তত আব্বাকে বলতে পারব যে আপনার দুঃখী মানুষের জন্য এইটুকু কাজ আমি করে আসতে পেরেছি। অন্তত এইটুকু তো বলতে পারব; সেটুক্ইু আমার চাওয়া আর কিছুই না”।

বর্তমানে রোহিঙ্গা আন্তর্জাতিক সমস্যায় মানবিক ও রাষ্ট্রনায়কোচিত পদক্ষেপ নিয়ে তিনি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার অনন্য পথিকৃৎ হয়ে উঠেছেন। ব্রিটিশ মিডিয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বর্ণনা করেছে, ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ হিসেবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক পত্রিকা খালিজ টাইমস বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রাচ্যের নতুন তারকা হিসেবে অভিহিত করেছে।

২০১৭ সালের ১২ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষনে তিনি বলেন, “আলোচনার মাধ্যমে আমরা ভারতের সঙ্গে স্থলসীমানা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছি। মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমারও শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছি। এর ফলে বিশাল সমুদ্র এলাকায় সমুদ্রসম্পদ আহরণের পথ সুগম হয়েছে; যা জাতীয় অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখবে। আমরা যুদ্ধ চাইনা, শান্তি চাই। আমরা অর্থনৈতিক উন্নতি চাই, মানব ধ্বংস নয়, মানবকল্যাণ চাই। এটাই হোক আমাদের সকলের লক্ষ্য”।

এদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সারা বিশ্বে প্রশংশিত। সম্প্রীতির বন্ধনে সকলে আবদ্ধ। ২০১৭ সালের ১২ জানুয়ারী জাতির উদ্দেশ্যে এক ভাষনে তিনি বলেন,  “আমাদের বাংলাদেশ। এই ভূখন্ড মুসলিম অধ্যুষিত দেশ। তার ৯০ ভাগ অধিবাসীই মুসলমান। কিন্তু একই সঙ্গে সঙ্গে অন্য ধর্মের মানুষও এখানে বসবাস করে। আমরা ইসলামের যে প্রকৃত শিক্ষা সেই শিক্ষার মধ্যে দিয়েই সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং সকল ধর্মের মানুষ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা পালন করবে। সেই পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা সক্ষম হয়েছি। যে শিক্ষা আমরা পেয়েছি আমাদের পবিত্র কোরআন শরিফের সুরা কাফেরুনে সেখানে বলা আছে, “লাকুম দিনুকুম অলিয়া দ্বীন”। আমরা সেটাই বিশ্বাস করি। কাজেই সকল ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করবে”।

জনবান্ধব প্রশাসন গড়ার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উন্নয়ন কর্মকান্ডের সাথে জোড়ালো সম্পৃক্তার কারণেই দেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। ২০১৭ সালের ২৫ জুলাই জেলা প্রশাসক সম্মেলনে বলেন, “মানুষের জন্য প্রশাসন, প্রশাসনের জন্য মানুষ নয়। আপনাদের মানুষের কাছে যেতে হবে, তাদের সঙ্গে মিশে তাদের দাবী-সমস্যার কথা শুনতে হবে। মানুষের সঙ্গে কথা বলে স্থানীয় সমস্যা-সম্ভাবনা সম্পর্কে জানুন এবং সেগুলি কেন্দ্রকে জানান। আপনাদের সঠিক তথ্যের ভিত্তিতেই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। আমরা মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করছি। দেশের মানুষ সুখে-শান্তিতে থাকবে, উন্নত জীবন পাবে সেজন্যই আমাদের সকলের প্রচেষ্টা”।

সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনেও বঙ্গবন্ধু কন্য শেখ হাসিনার পদাচরনা সকলের কাছে অনুকরনীয়। ২০১৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারিতে সার্ক সাহিত্য উৎসব অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমরা রাজনীতিবিদরা এবং সাহিত্য অঙ্গনের মানুষেরা এই একটি জায়গায় এক হয়ে কাজ করতে পারি। আমি মনে করি মানুষে-মানুষে, জাতিতে-জাতিতে মেলবন্ধন সৃষ্টিতে সাহিত্য-সংস্কৃতি জগতের মানুষেরা সবচেয়ে বেশি অবদান রাখতে সক্ষম। কারণ সাহিত্য-সংস্কৃতি কোন সীমারেখা মানে না। মানুষে-মানুষে যোগাযোগ সৃষ্টিই কেবল পারে আমাদের মধ্যে বিভেদ, বৈষম্য এবং অন্ধকার দূর করতে”।

আর এভাবেই আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হয়ে যান মমতাময়ী এবং মানবকল্যাণে ব্রতী এক অনন্য দূরদৃষ্টি সম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস-২০১৬ এর আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “জীবনের ধন-সম্পদ কিছুই না। মরে গেলে সব ফেলে রেখে যেতে হবে। এই সম্পদের জন্য মানুষ অনেক মারামারি, কাটাকাটি করে ফেলে। কিন্তু যখন মরে যায়, তখন কোথায় যায়? এ সম্পদ কোথায় থাকে? কী কাজে লাগে? কোন কাজে লাগে না। কাজেই তার জন্য অসৎ পথে কেন আমরা যাব? তার জন্য মারামারি-হানাহানি- কাটাকাটি কেন করব? বরং যা কিছু আছে সব দিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করব। সেখানেই বেশি আনন্দ। সেখানেই সবথেকে বেশি ত্যাগ”।

অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা, মেধা, বিচক্ষণতা, আত্মপ্রত্যয় ও দুরদর্শিতার কারণে তিনি এখন বিশ্বনেত্রী।  তিনি তাঁর মানব-কল্যাণ নীতি ও কর্মকান্ডের জন্যে ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার, জাতিসংঘের আইসিটি পুরস্কার, ইউনেস্কোর ‘ট্রি অব পিস’ পুরস্কার, প্ল্যানেট ফিফ্টি ফিফ্টি, চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ পুরস্কারসহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর মধ্যে বাংলাদেশকে যেখানে এনে দাঁড় করিয়েছেন, তা এক অসম্ভব সাফল্য, যা অনেক শাসকের কাছেই অকল্পনীয় ও ঈর্ষনীয়। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ এখন চমক। শুধু বাংলাদেশই নয়, বিশ্বকে এগিয়ে নেয়ার আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর পরামর্শও এখন গ্রহণযোগ্য এবং প্রশংসনীয়। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বলেছেন, শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটেছে। কানাডার আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন মন্ত্রী মেরী ক্লদ বিবেউ বলেছেন, শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নে দক্ষিণ এশিয়ার স্তম্ভ।

বাংলাদেশে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত ও মধ্যম আয়ের আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণে কাজ করছে। দেশবাসীর মতোই আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোও ক্রমান্বয়ে তাঁর ওপর আস্থাশীল হয়ে ওঠছে। দেশরতœ শেখ হাসিনা আজ জাতিসংঘ তথা বিশ্ব পরিমন্ডলে শান্তি ও ন্যায়ের এক মূর্ত প্রতীক।

লেখক : সফুরউদ্দিন প্রভাত, সম্পাদক, আলোর পথযাত্রী

 

 

শেয়ার করে পাশে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই পাতার আরো খবর
© All rights reserved © 2021 Jee Bazaar
Theme Customized BY WooHostBD