মঙ্গলবার | ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ ইং |

মোঃ নজরুল ইসলাম বাবু

মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী, প্রগতিশীল, মুক্তবুদ্ধি ও মুক্ত চিন্তা চেতনার মানুষ অনগ্রসর সমাজেকে নতুন করে বিনির্মান করতে নিরলসভাবে কাজ করে যান। তাদের সাধনা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সংস্কৃতি, সভ্যতা ও রাজনীতি আলোর পথে অগ্রসর হয়। তাদেরই একজন নজরুল ইসলাম বাবু। দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয়। তাঁর মধ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষকে আপন করে নেয়ার এক দূর্লভ গুণ। তাঁর পিতামহ আধ্যাত্মিক সাধক পিরে কামেল মোকাম্মেল মরহুম মাওলানা মফিজউদ্দিন আজীবন মানুষের সুখে-দুঃখে, বিপদে আপদে পাশে থেকে সহযোগিতা করেছেন। এজন্যে এলাকাবাসী আজও তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। পিতামহের আদর্শ ও কর্মসূচীকে লালন করে দেশ ও জাতির কল্যাণে তিনি রাজনীতি করে যাচ্ছেন। দেশের এই কৃতি সন্তান ১৯৬৭ সালের ১০ মার্চ নারায়ণগঞ্জ উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের অন্তর্গত বাজবী গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। । তাঁর পিতা মরহুম সহিদুর রহমান এবং রত্মগর্ভা মা মরহুম জাহানারা বেগম। পাঁচ ভাই চার বোনের মধ্যে তাঁর অবস্থান পঞ্চম। নজরুল ইসলাম বাবু’র সহধর্মিণী ডা. সায়মা আফরোজ ইভা, এম বি বি এস, আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। একমাত্র ছেলে ইয়াসার ইসলাম ইশান গুলশান স্কলাস্টিকায় পড়াশুনা করছে। পরিবারে সবার আদরের সন্তান হিসেবেই সারা বাংলায় বাবু নামটি ‘বাবু ভাই’ হিসেবে সমধিক পরিচিতি

তিনি দুপ্তারা সেন্ট্রাল করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮২ সালে এস এস সি, ১৯৮৪ সালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে এইচ এস সি এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক এবং সবশেষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্সসহ এম এস এস ডিগ্রি অর্জন করেন।

তিনি আড়াইহাজার ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্থানীয় ছাত্র রাজনীতির যাত্রা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি সমবায় আন্দোলনের অগ্রদূত হিসেবে স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৯৬ সালে সমবায় ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এছাড়াও তিনি সমবায় মার্কেটিং সোসাইটি এবং বাংলাদেশ জুট কো-অপারেটিভ সোসাইটি’র চেয়ারম্যান হিসেবে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ কোল্ড ষ্টোরেজ এসোসিয়েশনে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৯৬ সাল থেকে তাকে পরপর তিনবার পরিচালকের দায়িত্ব প্রাপ্ত হন।

তিনি ১৯৮৮ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন করে সাড়ে তিন মাস এবং বিএনপি জোট সরকারের সময় ২০০২ সালে গ্রেফতার হয়ে ডান্ডাবেড়ী পরিহিত অবস্থায় ১১ মাস কারাভোগ করেন। কারান্তরীণ থাকাকালেই ২০০২ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এর পূর্বে ১৯৯২ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯৪ সালে ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) ছাত্রলীগের সভাপতি এবং ১৯৯৮ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে যে গ্রেনেড হামলা হয়েছিল সেখানে গুরুতর আহতদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। ভাগ্যের জোরে বেঁচে যাওয়া নজরুল ইসলাম বাবু এখন আড়াইহাজার উপজেলার মাটি ও মানুষের আশা-আকাঙক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে তৃতীয়বারের মত জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে রেকর্ড পরিমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে চিরচেনা আড়াইহাজারকে বদলে দিয়েছেন।

দূরদর্শী রাজনীতিবিদ আর দক্ষ হাতে আড়াইহাজারকে এগিয়ে নেওয়ার ভিতরকার এমন কোমল, ভালোবাসাময় স্নিগ্ধ একটি রূপের সম্মিলন আছে বলেই তিনি অন্য সবার থেকে একেবারেই আলাদা।। বদলে যাওয়া দেশের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ছোঁয়ায় বদলে গেছে আড়াইহাজারবাসীর আর্থ-সামাজিক অবস্থান। ঠিক নজরুল ইসলাম বাবু’র মতোই মানবতার জয়গানে মোহাচ্ছন্ন হবে সবাই, হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সবাই গেয়ে উঠবে ভালোবাসার গান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত হবে তারুণ্য।

লেখক : সফুরউদ্দিন প্রভাত, সম্পাদক -আলোর পথযাত্রী

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *