মঙ্গলবার | ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ ইং |

সব আছে শুধু মা নেই

আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম বাবু : পৃথিবীতে সব মা সব সন্তানের সবচেয়ে বেশি আপন ও প্রিয়। মা তো মা-ই…। যারা নিজে না খেয়ে সব সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখেন। কিন্তু আমার মা আমার জন্য তার চেয়েও অনেক বেশি করেছেন। আমি ছাত্র রাজনীতি করার কারণে আমাকে এরশাদ, খালেদা সব স্বৈরাচারেরই রোষানলে পড়তে হয়েছে।

২০০২ সালে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা’র সুধাসদনের বাসায় সাক্ষাত শেষে ফেরার পথে রাতে ডিবি পুলিশ আমাকেসহ লিয়াকত শিকদার, রফিকুল ইসলাম কোতোয়ালসহ ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতাদের  যখন গ্রেফতার করে। একের পর এক মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটকে রাখে। ডান্ডাবেড়ী পরিয়ে আমাকে কেন্দ্রীয় কারাগারের পাঁচফুট বাই আড়াইফুট কক্ষের মধ্যে আটকে রাখে। মা তখন কত রাত কান্না করে কাটিয়েছেন তার কোন হিসেব নেই। ছেলের অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে মা নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়ে মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রার্থনা করেছেন।

মনে পড়ে যখন কোন সমস্যা সামনে এসে পড়ত মা সবকিছুই সামাল দিয়ে আমাকে উৎসাহ দিতেন।  ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতা-কর্মীর কাছেই আমার মা সবার মা। মা আমাদের যেমন আদর-যত্ন করতেন, ঠিক প্রতিটি ছাত্রলীগ নেতা-কার্মীকেও তেমনি ভালোবাসতেন। আমি বাড়িতে না থাকলেও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীকে মা দেখে রাখতেন এবং যাবতীয় দেখভাল করতেন। কখনো কখনো গভীর রাতে বাড়ি ফিরতাম। এসে দেখি মা আমার অপেক্ষায় বসে আছেন। কখনো তার মুখে বিরক্তির ছাপ দেখিনি। ছাত্র রাজনীতি ও জাতীয় রাজনীতিতে সব সংকটেই আমাকে ভরসা দিতেন তিনি। আমার মা সব সময়ই বলতেন, আমার ছেলে বড় হবেই। মার সব স্বপ্নই ছিল আমাকে ঘিরে। মায়ের সব স্বপ্নই ছিল আমাকে নিয়ে; আমি বড় হব, এমপি হব, বড় রাজনীতিবিদ হব, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতির জনকের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে যাব, এটাই মার একমাত্র স্বপ্ন। মায়ের স্বপ্ন আজ পূরণ হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে এমপি  বানিয়েছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমার মা এমপি  হওয়া দেখে যেতে পারলেন না। “মা”শুধু মা নেই। সব আছে শুধু মা নেই। আমি যখনই বাসা থেকে বের হই, তখন সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে আমার মায়ের কথা। আজকে আমার অবস্থান দেখে মা সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমার যে মা আমাকে তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন আজ আমি এমপি কিন্তু আমার মা-ই দেখে যেতে পারলেন না। আমার চেয়ে দুর্ভাগা আর কে আছে? তিনিই ছিলেন সবার মধ্যমণি। দেশ ও দশের সেবা করাই তার ব্রত। আমার সব বিষয়েই মা ছিলেন আমার পরামর্শদাতা, সুখ-দুঃখ সবকিছুই বলতাম মাকে। মা বলতেন, ‘তোর কিছু হবে না, আল্লাহ তোকে ভালো রাখবেন।’ আমার চিন্তা-চেতনায়, অস্তিত্বে, ভাবনায় মাকে ছাড়া আমি কিছুই ভাবতে পারি না। আমার মা বেশির ভাগ সময়ই থাকতেন জায়নামাজে, রোজা রাখতেন প্রতি সপ্তাহেই। কখনো নামাজ কাজা করতে দেখিনি আমি। মানুষের উপকার করাই মায়ের একমাত্র লক্ষ্য। রত্ন গর্ভা মা ছিলেন পরম দয়ালু ও দানশীল।

আজকে মা দিবসে মায়ের জন্য দোয়া চেয়ে শুধু মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে কামনা করি আল্লাহ যেন আমার মা জাহানারা বেগমকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করেন এবং তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সততার সঙ্গে কাজ করার জন্য আমাকে তাওফিক দান করেন। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজীবন আড়াইহাজারবাসী সেবক হয়ে কাজ করতে পারি, জাতির জনকের সোনার বাংলা যেন গড়ার গর্বিত অংশীদার হতে পারি।

জাতীয় সংসদ সদস্য, নারায়ণগঞ্জ-২, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (২০০২-২০০৬)

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *