মঙ্গলবার | ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ ইং |

আহমেদ মুসা

সফুরউদ্দিন প্রভাত 

বাংলাদেশের যে ক’জন গুণী লেখক তাদের লেখনী ও কর্মজজ্ঞের মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তুলে ধরে আলোর পথের দিশারী হয়ে আছেন তাদেরই একজন আহমেদ মুসা।

আহমেদ মূসার জন্ম ১৯৫৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি, নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার মেঘনাবেষ্টিত কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের ইজারকান্দি গ্রামে। চার দশক বছর ধরে তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। ১৯৮০ সালে শুরু করেন সাপ্তাহিক বিচিত্রার প্রদায়ক হিসেবে। পরবর্তীকালে দৈনিক সংবাদ, দিনকাল, দেশজনতা এবং সাপ্তাহিক ২০০০, আগামী; পাক্ষিক তারকালোক, মাসিক নিপুণ ও স্যাটেলােইট টিভি চ্যানেল বাংলাভিশনসহ অনেক গণমাধ্যমের সাথে যুক্ত ছিলেন। কলাম লিখেছেন অনেক পত্রিকায় ।
আহমেদ মূসার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্য পঁচিশ। প্রকাশিত হয়েছে উপন্যাস সমগ্র, নির্বাচিত গল্পগ্রন্থ, মঞ্চ ও টিভি নাটক সমগ্র। শিশুদের জন্য প্রকাশিত হয়েছে দু’টি গ্রন্থ। রাজনৈতিক হত্যাকান্ড-বিরোধী এবং মুক্তিযুদ্ধ-কেন্দ্রিক কয়েকটি গ্রন্থ রয়েছে তার। রয়েছে ইতিহাস-আশ্রয়ী উপন্যাস ও প্রবাস জীবন-কেন্দ্রিক উপন্যাস। অনেক টিভি নাটক ও ধারাবাহিক নাটকের নাট্যকার তিনি। প্রদর্শিত হচ্ছে তার মঞ্চ নাটকও।
সরাসরি দলীয় রাজনীতি করেছেন কয়েকবছর। বর্তমানে দলীয় কোনো রাজনীতির সাথে তার সম্পৃক্ততা নেই। পেশাগত জীবনে সাংবাদিকতার বাইরেও তিনি ছিলেন বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন এবং জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক।
আহমেদ মূসা অনেক গণ ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ও আছেন। নিজ এলাকা কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের ইজারকান্দি গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেছেন আলোর সেতু পাঠাগার। পাঠাগারটি সামাজিক অবক্ষয় রোধে বেশ ভূমিকা রেখে আসছে।  ১৯৯৬ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বিকাশকেন্দ্রের প্রকাশনা সম্পাদক থাকার সময় প্রকাশিত হয়েছিল সাড়া জাগানো আকর-গ্রন্থ ‘একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা কে কোথায়।’ সে গ্রন্থের তথ্য-সংগ্রাহকদেরও একজন তিনি। আহমেদ মূসা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ১০১ প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের একজন। বাংলাদেশের জন্মশত্রু-বিরোধী আন্দোলনে সবসময়ই সক্রিয়। তিনি প্রথাগত শিক্ষা শেষ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী নিয়ে। আচার্য দীনেশচনদ্র সেন স্মৃতি পুরস্কারসহ কয়েকটি পুরস্কার পেয়েছেন। ভ্রমণ করেছেন কানাডা, যুক্তরাজ্য,  ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি, হলান্ড, অস্ট্রিয়া শ্রীলঙ্কা, ভারত, নেপাল, চীন, ইরান, থাইল্যান্ড প্রভৃতি। প্রায় ৭/৮ বছর ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট প্রবাসী।প্রবাসে থেকেও দেশের মানুষের সবসময় খোঁজ খবর নিতে কখনও ভূল করেননা। গোপনে এলাকার অসহায় দরিদ্রদের আর্থিক সহায়তার ছাড়্রাও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অবদান রেখে আসছেন। প্রচার বিমুখ এই গুণী মানুষটি আড়াইহাজারবাসীকে গর্বিত করেছেন। আলোর পথযাত্রী হয়ে বিভিন্ন সময় দিক নির্দেশনা দিয়ে কৃতজ্ঞতার বন্ধনের আবদ্ধ হয়ে আছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন আড়াইহাজারবাসীর অহংকার  আহমেদ মুসার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু দান করেন।আমিন।

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *