1. shahinit.mail@gmail.com : admin :
  2. alorpathajatri7@gmail.com : সফুরউদ্দিন প্রভাত : সফুরউদ্দিন প্রভাত
রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:২৬ অপরাহ্ন

নজরুল জয়ন্তী ‘উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ব-বিধাতৃর’

প্রতিবেদক
  • প্রকাশ কাল মঙ্গলবার, ২৫ মে, ২০২১

“ভূলোক দ্যুলোক গোলোক ভেদিয়া,/ খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া/ উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ব-বিধাতৃর!… বল বীর-/ আমি চির-উন্নত শির!” ‘বিদ্রোহী’ কবিতাসহ নানা কবিতায় এমন স্পর্ধিত উচ্চারণের জন্য কবি কাজী নজরুল ইসলামকে জেলে যেতে হয়েছিল। তবুও তিনি দমে যাননি। এ কারণেই তাকে বলা হয় ‘বিদ্রোহী কবি’। আবার সেই নজরুলই গেয়েছিলেন ‘আলগা করো গো খোঁপার বাঁধন/ দিল ওহি মেরা ফাস গায়ি’র মতো প্রেমের গান। একদিকে যেমন তিনি ছিলেন শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার, দ্রোহের আগুনের হলকা ছুটিয়েছেন কলমের মোচড়ে, আবার অন্যদিকে ছিলেন বর্ষার দিনে রাস্তায় শুয়ে থাকা লাল শিমুলের মতো স্নিগ্ধতায় মোড়ানো।
বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহ-প্রতিবাদের নতুন ধারা সৃষ্টি করা এই ঝাঁকড়া চুলের কবি গেয়ে গেছেন সাম্য অসাম্প্রদায়িকতা আর মানবতার গান। আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ, ২৫ মে ধূমকেতুর সঙ্গে তুলনীয় এই মহান কবির ১২২তম জন্মজয়ন্তী।
১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৮৯৯ সালের আজকের এই দিনে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার জামুরিয়া থানার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন কাজী নজরুল ইসলাম। কাজী ফকির আহমেদ ও জাহেরা খাতুন দম্পতির ষষ্ঠ সন্তান ছিলেন তিনি। ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। মাত্র ৯ বছর বয়সেই পিতার ছায়া হারিয়ে অভাব-অনটনের মধ্যে বড় হন তিনি। জীবনের উত্তাল নদীতে হাল ধরেন শক্ত হাতে। ভর্তি হন লেটো গানের দলে। তার চাচা কাজী বজলে করিম ছিলেন চুরুলিয়া অঞ্চলের লেটো গানের ওস্তাদ। ধারণা করা হয়, চাচার প্রভাবেই তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন। সেখানে নাটকের জন্য গান ও কবিতা লিখতে গিয়ে কবির সাহিত্যচর্চার সূচনা হয়। এভাবেই বাংলার সাহিত্যাকাশে জন্ম নেয় এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার আলো এখনও পথ দেখায় বাঙালিকে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম কল্যাণীয়েষু, আয় চলে আয়রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু, দুর্দিনের এই দুর্গশিরে উড়িয়ে দে তোর বিজয় কেতন।’
নজরুলের সাহিত্যকর্মে প্রাধান্য পেয়েছে ভালোবাসা, মুক্তি ও বিদ্রোহ। ধর্মীয় ভেদাভেদের দেয়াল ভাঙার ঘোষণা দেন তিনি। ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক লিখলেও তিনি কবি হিসেবেই বেশি পরিচিত। একদিকে শিক্ষা ও চাকরিসূত্রে মসজিদ, মাজার ও মক্তবজীবন, অন্যদিকে লেটো দলের বিচিত্র অভিজ্ঞতা নজরুলের সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে অনেক উপাদান সরবরাহ করেছে। বাংলা কাব্যে তিনি নিয়ে আসেন ইসলামী সংগীত তথা গজলের নতুন ধারা। প্রচুর শ্যামাসংগীতও লিখেছেন তিনি। নজরুল তার শেষ ভাষণে উল্লেখ করেন, ‘কেউ বলেন আমার বাণী যবন কেউ বলেন কাফের। আমি বলি ও দুটোর কোনোটাই না। আমি শুধু হিন্দু মুসলিমকে এক জায়গায় ধরে নিয়ে হ্যান্ডশেক করানোর চেষ্টা করেছি, গালাগালিকে গলাগলিতে পরিণত করার চেষ্টা করেছি।’
নজরুল জীবনে প্রায় তিন হাজার গান রচনা ও সুর করেছেন, যা নজরুলসংগীত হিসেবে পরিচিত। মধ্যবয়সে তিনি পিকস্‌থ ডিজিজে আক্রান্ত হন। এর ফলে আমৃত্যু তাকে সাহিত্যকর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়। একসময় তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। এ সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেন। ১৯৭৬ সালে কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং ‘একুশে পদক’ দেওয়া হয়। ওই বছর ২৯ আগস্ট তিনি ইহধাম ত্যাগ করেন। কাজী নজরুলের রচিত ‘চল চল চল’ বাংলাদেশের রণসংগীত। তার কিছু গান গ্রন্থাকারে সংকলিত হয়, যার মধ্যে রয়েছে গানের মালা, গুলবাগিচা, গীতি শতদল, বুলবুল ইত্যাদি। তবে তিনি প্রায়ই তাৎক্ষণিক লিখতেন বলে অনুমান করা হয়, সংরক্ষণের অভাবে তার বহু গান হারিয়ে গেছে। এ ছাড়া কাজী নজরুল গান রচনাকালে ১৯টি রাগের সৃষ্টি করেন, যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

জাতীয় কবি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অন্যতম এ প্রাণপুরুষের জন্মদিনটি গতবারের মতো এবারও সীমিত আকারে উদযাপন করা হবে।  রাষ্ট্রীয় আয়োজন ছাড়াও ছায়ানট, আলোর পথযাত্রী পাঠাগারসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন দিনটি পালন করছে।

শেয়ার করে পাশে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই পাতার আরো খবর
© All rights reserved © 2021 Jee Bazaar
Theme Customized BY WooHostBD